গীবত: সমাজ ও পরিবারে অশান্তির মূল

ইসলামিক নিউজ ডেস্ক:আমাদের সমাজে গীবত আজ একটি নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পারিবারিক আড্ডা, সামাজিক অনুষ্ঠান, অফিস-আদালত এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও গীবতের ছড়াছড়ি। অথচ গীবত করা ইসলামে কবিরা গুনাহ। গীবত শুধু ব্যক্তির ইজ্জত নষ্টই করে না, এটি পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক শান্তি ও জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে। অনেক সময় অমূলক অনুমানের ভিত্তিতে আমরা অন্যদের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করি, যা সম্পূর্ণ ভুল ও পাপের কারণ হয়।

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে তিনটি গুরুতর পাপ থেকে সতর্ক করেছেন: অহেতুক অনুমান, গোপন দোষ অনুসন্ধান ও গীবত করা। আয়াতে এগুলিকে এমন নিকৃষ্ট কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেন কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া। এই বর্ণনার মাধ্যমে ইসলাম গীবতের ভয়াবহতা ও নিন্দনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে গীবত ও অপবিশ্বাস থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, পাশাপাশি তিনি তাঁর অসীম রহমত ও ক্ষমার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তওবা গ্রহণকারী ও অসীম দয়ালু।" অর্থাৎ, আমরা যদি আমাদের ভুল স্বীকার করে নিষ্ঠার সাথে তওবা করি, অতীতের গীবত ও কু-অনুমান থেকে বিরত থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করি, তাহলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন।

মহান রব্বুল আলামীন প্রতিটি মানুষের মন-মানসিকতা, গোপন ইচ্ছা ও প্রকাশ্য কাজ-কর্ম সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের কল্যাণ কামনা করেন। আসুন আমরা তাঁর নির্দেশনা মেনে চলি, গীবত ও অপবিশ্বাস থেকে দূরে থাকি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধন মজবুত করি। আল্লাহর রহমতের চাদরে নিজেদের আবৃত রাখার চেষ্টা করি। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। আমীন।