এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমঃ গবাদি পশুর খামারের সাফল্য নির্ভর করে প্রাণীর সঠিক যত্ন ও ব্যবস্থাপনার উপর। বিশেষ করে বাছুরের জন্মপরবর্তী সময়ে নিবিড় পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত বিদেশি ক্রসব্রিড বা উচ্চ উৎপাদনশীল জাতের বাছুরের ক্ষেত্রে। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাছুরকে রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান করে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা খামারির আর্থিক সফলতা নিশ্চিত করবে।
জন্মের পরপরই বাছুরের প্রাথমিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য জন্মের পর বাছুরের নাক-মুখ পরিষ্কার করা অর্থৎি বাছুর জন্মের পর শ্বাসনালী থেকে তরল ও মিউকাস পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে নাক-মুখ হাত দিয়ে ঝাড়া দিতে হবে বা রাবার বাল্ব ব্যবহার করা যেতে পারে। নাভি কর্তনের পর টিংচার আয়োডিন বা অ্যান্টিসেপটিক লাগিয়ে ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে হবে। বাছুরের শরীর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা করতে হিট ল্যাম্প বা খড়ের বিছানা দিতে হবে।
বাছুর জন্মের ১-২ ঘণ্টার মধ্যে বাছুরকে মায়ের শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করাতে হবে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ১০% বাছুরের শরীরের ওজন (সাধারণত ২-৪ লিটার) কলোস্ট্রাম দিতে হবে।
সুষম খাদ্য ও পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহে শুধু শালদুধ ও কৃত্রিম দুধ (প্রয়োজনে) দিতে হবে। ২য় সপ্তাহ থেকে হাই কোয়ালিটি সলিড ফিড (প্রি-স্টার্টার) এবং পরিষ্কার পানি দিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে দানাদার খাবার অভ্যস্ত করতে হবে, যা রুমেন বিকাশে সাহায্য করে।
সময়মতো ভ্যাকসিন (যেমন: FMD, BVD, HS, ব্রুসেলোসিস) দিতে হবে। এছাড়া নিয়মিত ডি-ওয়ার্মিং করতে হবে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে।
বাছুরের থাকার স্থানটি হতে হবে শুকনো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। নিয়মিত বেডিং পরিবর্তন এবং জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে।
আমাদের দেশে বিদেশি ক্রসব্রিড বাছুরের উৎপাদন দিনদি বাড়ছে এজন্য অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এরা স্থানীয় জলবায়ু ও রোগের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। প্রতিটি বাছুর জন্ম তারিখ, টিকা, ওজন ও চিকিৎসার হিসাব ভালোভাবে রাখতে হবে।
বাছুরের জন্মপরবর্তী যত্নই তার ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতা নির্ধারণ করে। সঠিক পরিচর্যা, সুষম খাদ্য ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করলে খামারের উৎপাদন বাড়বে এবং লাভজনক হবে। তাই প্রতিটি খামারির উচিত বাছুরের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।